ইরানের সম্ভাব্য হামলা ও গুপ্তহত্যার চরম ঝুঁকি এড়াতে গত মাসে তুরস্ক থেকে অত্যন্ত গোপনে একটি সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে এই গোপন সফর সম্পন্ন হলেও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সে সময় দাবি করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট তাঁর নির্ধারিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত এক ইরানি নাগরিকের কাছ থেকে গুপ্তহত্যার সুস্পষ্ট হুমকির তথ্য পাওয়ার পরই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের নিরাপত্তায় এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গত সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মাসে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথা অনুযায়ী গণমাধ্যমের সামনে তাঁর পরিচিত আকাশি-নীল রঙের পুরোনো বোয়িং ৭৪৭ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে আরোহণ করেন। কিন্তু ভেতরে প্রবেশের পরপরই বিমানের অপর পাশে থাকা একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে অত্যন্ত সন্তর্পণে তাঁকে ও তাঁর কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টাকে ছোট আকৃতির একটি ‘সি-৩২এ’ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই ছোট বিমানে করেই তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের আসল অবস্থান গোপন রাখতে বৃহদাকার এয়ার ফোর্স ওয়ানটিকে মূলত একটি ‘ডিকয়’ বা ছদ্মবেশী বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। গোপনীয়তার মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে বিমানে থাকা হোয়াইট হাউসের অধিকাংশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরাও জানতেন না প্রেসিডেন্ট তাঁদের সঙ্গে নেই। এমনকি মাঝআকাশে সাংবাদিকদের বিমানের সব জানালার পর্দা নামিয়ে রাখারও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন গোয়েন্দা ও সিক্রেট সার্ভিসের কাছে ইরানি বা তাদের সমর্থিত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা গুপ্তহত্যার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য আসার পরই এই বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হয়। এর আগে ২০০০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাকিস্তান সফরের সময়ও ঠিক একই ধরনের ছদ্মবেশী নিরাপত্তাকৌশল নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহাল ঘাঁটিতে সি-৩২এ বিমানটি অবতরণ করার কিছুক্ষণ পরই সাংবাদিকদের বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান সেখানে পৌঁছায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কীভাবে পুনরায় পুরোনো বিমানে ফিরে গিয়েছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়; তবে গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি সেই এয়ার ফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি দিয়েই স্বাভাবিকভাবে নেমে আসেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।
আরও
পুরো ঘটনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিয়াং এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন সর্বোচ্চ স্তরের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। আমেরিকার শত্রুরা সার্বক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর নজর রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় এ ধরনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।










