সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কথা থাকলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়নি। কবে নাগাদ এই প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের কাছেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তারপরও প্রতিদিনই বোয়েসেল কার্যালয়ে ভিড় করছেন শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষ। বোয়েসেলের কর্মীরা জানান, নতুন কোনো নির্দেশনা তাঁদের কাছে আসেনি। কার্যালয়ে টানানো একটি নোটিশে শুধু বলা হয়েছে, মাসের শেষে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে খোদ সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যেই চরম সমন্বয়হীনতা ও তথ্যের ঘাটতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার একাংশের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ অকপটে স্বীকার করেন, মালয়েশিয়া ইস্যুতে সরকার তাঁকে একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে কিছু জানায় না। অন্যদিকে, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে তাঁর দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই দফা আলোচনা হলেও সেখানে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বা প্রতিমন্ত্রীর কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের এমন সমন্বয়হীনতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অনেক অংশীদার রয়েছেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে যেমন সমন্বয় প্রয়োজন, তেমনি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও যৌথ সমন্বয় থাকা জরুরি। এর আগে সরকারি পর্যায় থেকে আগস্টের শেষে মালয়েশিয়ায় অভিবাসন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার না করলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সাধারণ কর্মীদের এই অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।








