ভারতে এই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের একটি অভিনব প্রকল্প চালু করা হয়েছে। দেশটির উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর জেলার ১৫টি গ্রামে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করা এবং গ্রামীণ নারীদের জন্য আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়িয়ে প্রতি লিটার গোমূত্রের দাম ২০ রুপি পর্যন্ত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুলন্দশহরের সায়ানা তহসিলের নরসাইনা গ্রামে ড. প্রবীণের নেতৃত্বে একটি কৃষক উৎপাদক সংগঠনের (এফপিও) মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। গোমূত্র সংরক্ষণের জন্য গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার বিশেষ ট্যাংক বসানো হয়েছে। এই কাজে প্রায় ৩০০ গ্রামীণ নারী যুক্ত রয়েছেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে প্রকল্পটির শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে। সংগৃহীত গোমূত্র সংগ্রহের কাজে সহায়তা করার জন্য ওই নারীদের প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশন দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের অতিরিক্ত আয়ের পথ উন্মুক্ত করেছে।
দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া বা অনুৎপাদনশীল গবাদিপশুর দেখভাল করা এবং কৃষিকাজে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে গোমূত্র ব্যবহারের কাঁচামাল তৈরি করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে রাজ্যজুড়ে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দুধেল গরু ছাড়াও অন্য গবাদিপশুর মাধ্যমে কৃষকদের আয় নিশ্চিত করার এই পদক্ষেপ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও
তবে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে সহজভাবে নেয়নি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। দলটির পক্ষ থেকে এই প্রকল্পকে একটি ‘কেলেঙ্কারি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এসপির মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান অভিযোগ করেছেন, মূলত আসন্ন নির্বাচনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতেই সরকার এই ভুয়া প্রকল্পের নামে অর্থ তছরুপ করছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের গোশালা বা সেখানে থাকা গরুগুলো মোটেও নিরাপদ নয় এবং এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো প্রকৃত উন্নয়ন হবে না।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির এমন সমালোচনার তীব্র জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির মুখপাত্র হিরো বাজপাই পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার যেকোনো গঠনমূলক ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিলেই তাতে অহেতুক ত্রুটি খুঁজে বেড়ায় এসপি। তিনি আরও বলেন, সমাজবাদী পার্টি সাধারণত যে জনগোষ্ঠীর রাজনীতির কথা বলে থাকে, বর্তমান এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই জনগোষ্ঠীর কৃষকেরাই লাভবান হচ্ছেন; অথচ তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের গাত্রদাহ কাটছে না।











