Long Popup (2)
সর্বশেষ

থাইল্যান্ডে ৩ ভারতীয় পর্যটককে অপহরণের দায়ে ৫ ভারতীয় আটক

Screenshot 2026 07 30ProbashircityWebPopupUpdate

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় সস্তা হলিডে প্যাকেজের লোভ দেখিয়ে তিন ভারতীয় পর্যটককে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি দাবির অভিযোগে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাকালে ব্যাংককের খলং তান এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে থাই পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই পাঁচ ভারতীয় নাগরিক হলেন অবতার সিং (৩৮), জগজিৎ সিং (৩৮), রামবালক কুমার (২৪), সুখবীর সিং (৩৭) ও কুলরা সিং (২৭)। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে দুবাইপ্রবাসী এক পাকিস্তানি নাগরিকের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তিই মূলত এই অপহরণ চক্রের মূল হোতা। তাঁর নির্দেশেই ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের লক্ষ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর বিনিময়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভুক্তভোগীদের কাছে থাকা নগদ অর্থ, মূল্যবান জিনিসপত্র এবং থাইল্যান্ড থেকে পালানোর জন্য বিমানের টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীদের পাতায়ায় সাত দিনের একটি সস্তা ছুটির প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাইল্যান্ডে আনা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তাঁদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। গত ২১ জুলাই ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থাইল্যান্ডে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় ইমিগ্রেশন ও পাতায়া সিটি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। অপহরণকারীরা পরিবারের সদস্যদের কাছে মাথাপিছু ৪০ লাখ রুপি (প্রায় ৪১ হাজার ৮৩১ মার্কিন ডলার) করে মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন। অর্থ আদায়ে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখাতে ওই তিন যুবককে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধরের ভিডিও কলও করা হয়েছিল।

গোপন তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গত সোমবার সন্ধ্যায় পাতায়ার একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে মোহিত (২৩), আশিষ (২৪) ও হিমাংশু (২০) নামের ওই তিন যুবককে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বাড়িটির ওপরের তলায় তাঁদের হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাঁদের শরীরে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে আঠালো টেপ, মারধরের কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের বস্তু এবং লাল রঙের স্প্রে পেইন্ট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, দ্রুত অর্থ আদায়ের জন্য এই রং ব্যবহার করে ভুয়া জখম বা রক্তপাতের দৃশ্য তৈরি করে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হতো। উদ্ধার হওয়া যুবকেরা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, তাঁদের আগে একই বাড়িতে আরেক ভারতীয় নাগরিককে আটকে রেখে ৩০ লাখ রুপি মুক্তিপণ আদায়ের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate