ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের শামলি জেলায় প্রেমের টানে ধর্ম পরিবর্তন করা এক যুবক আবারও নিজের পুরোনো ধর্মে ফিরে এসেছেন। হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করার তিন বছর পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে ধর্মান্তরবিরোধী আইনে ওই যুবকের প্রেমিকা ও তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আয়ুষ মালিক নামের ওই যুবকের সঙ্গে ২০১৮ সালে চাঁদনি কুরেশি নামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। পায়ে চোট পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কর্মরত চাঁদনির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একপর্যায়ে তাঁরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকেই আয়ুষকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাঁদনির পরিবার চাপ দিতে থাকে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের অমত থাকা সত্ত্বেও প্রেমের টানে আয়ুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণে রাজি হন। পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালে চাঁদনির পরিবার আয়ুষকে নিয়ে দিল্লিতে যায় এবং সেখানে তাঁর ধর্মান্তর সম্পন্ন হয়। আয়ুষ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মোহাম্মদ আলী। এরপর থেকে তিনি ইসলামি রীতিনীতি মেনে দাড়ি রাখেন, পোশাক পরিবর্তন করেন এবং দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করেন।
আরও
তবে দীর্ঘ তিন বছর এভাবে জীবন যাপনের পর সম্প্রতি তিনি আবারও হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন। চুল-দাড়ি কেটে এবং পূজায় বসে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ ধর্মে ফেরার কথা জানান আয়ুষ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ভালোবাসার কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও পরিবারের সদস্যদের কষ্ট ও যন্ত্রণা দেখে তিনি আবার পুরোনো ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে তিনি পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চান।
ছেলে সনাতন ধর্মে ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আয়ুষের বাবা দেবরাজ মালিক। তবে তাঁর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই চাঁদনি ও তাঁর বাবাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। দেবরাজ মালিকের দাবি, আয়ুষের ধর্ম পরিবর্তন করে তাঁদের কোটি কোটি টাকার পারিবারিক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল চাঁদনির পরিবার। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই উত্তর প্রদেশ পুলিশ ধর্মান্তর আইনে মামলা দায়ের করে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে।











