Opens in a new tab
সর্বশেষ

বাংলাদেশি নারীর পাসপোর্ট ও স্বামীর মরদেহ ৮ দিন আটকে রাখল ভারতীয় হাসপাতাল

88Web Popup (3)

চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর পর ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি বকেয়া বিলের অজুহাতে ৮ দিন ধরে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই বাংলাদেশি নারীর পাসপোর্টও আটকে রাখে তারা। পরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের হস্তক্ষেপে বকেয়া বিল মওকুফ করে গত শনিবার বিনা মূল্যে মরদেহটি হস্তান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম তানজিলা ইসলাম আশা (২৬)। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের নওগাঁয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে তিনি জানান, স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজের (৩২) কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর তাঁরা বেঙ্গালুরুতে যান। সবুজ দেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরদিন তীব্র বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে সেখানকার ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মণিপাল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে কয়েকটি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ১৪ সেপ্টেম্বর সবুজের ডান পা কেটে বাদ দেওয়া হয়। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তানজিলা ইসলাম জানান, চিকিৎসাকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখনই টাকা চেয়েছে, তিনি কয়েকটি কিস্তিতে মোট সাড়ে সাত লাখ রুপি পরিশোধ করেছেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই আরও ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি দাবি করে এবং ওই বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। এর আগে কোনো আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব বা পরিশোধ করা টাকার রসিদও তাঁকে দেওয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে তানজিলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছুটে যান সবুজের বন্ধু মোহাম্মদ মুক্তাদির হোসেন। পরে তাঁর ও স্থানীয় সমাজকর্মীদের সহায়তায় শুক্রবার পাসপোর্ট ফেরত পান তানজিলা এবং শনিবার বাড়তি কোনো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই স্বামীর মরদেহ বুঝে নেন।

অভিযোগের বিষয়ে মণিপাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, রোগী গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনস্বল্পতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তাঁকে লাইফ সাপোর্ট ও একমোতে রাখা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রক্তনালিতে জমাট বাঁধা রক্ত শনাক্ত হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর তাঁর ‘পালমোনারি থ্রম্বোএন্ডারটেরেক্টোমি’ নামক একটি জটিল অস্ত্রোপচারও করা হয়। তবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিমের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup