দেশের কওমি মাদরাসাভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কওমিপিডিয়া’ দেশের শীর্ষ পাঁচ প্রভাবশালী ইসলামি আলোচকের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত এই তালিকায় জনপ্রিয়তা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সমসাময়িক বিষয়ে প্রভাবের ভিত্তিতে এই রেঙ্কিং করা হয়েছে।
কওমিপিডিয়ার মূল্যায়নে এবারের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। দেশের অন্যতম সুপরিচিত এই আলেম কেবল ধর্মীয় আলোচনার জন্যই নন, বরং তার প্রতিষ্ঠিত ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। তার ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য এবং আর্তমানবতার সেবায় গৃহীত উদ্যোগগুলো নিয়মিত জনআলোচনায় স্থান পায়।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা হিসেবে পরিচিত। তার আধুনিক উপস্থাপনশৈলী, ধর্মীয় আলোচনা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর আলোচনার সৃষ্টি করে।
আরও
তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো, সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কড়া মন্তব্য এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি সবসময় আলোচনায় থাকেন। ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিষয়ে তার জোরালো বক্তব্য প্রায়ই জনপরিসরে বিতর্কের জন্ম দেয়।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন মুফতি রেজাউল করীম আবরার। বিভিন্ন ধর্মীয় মতপার্থক্য এবং সমসাময়িক ফিকহি ও আকিদাগত বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনায় থাকেন। কওমিপিডিয়ার মূল্যায়নে, তুলনামূলক কম বয়সেই তিনি উল্লেখযোগ্য পরিচিতি ও প্রভাব অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ওলামা সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মাওলানা আলী হাসান উসামা। সম্প্রতি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিস ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার পর তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তার এই অবস্থান পরিবর্তন এবং তৎপরবর্তী বক্তব্যগুলো তাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ইসলামি বক্তায় পরিণত করেছে বলে কওমিপিডিয়া মনে করছে।










