প্রেমের টানে সুদূর পাকিস্তান থেকে ছুটে এসে শরীয়তপুরের জাজিরায় এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন মোজাম্মেল হোসাইন নামের এক যুবক। গত শনিবার পাকিস্তানের লাহোর থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি গ্রামে প্রেমিকা তানজিলা আক্তারের বাড়িতে আসেন তিনি। এরপর স্থানীয় এক ইমামের উপস্থিতিতে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভিনদেশি যুবকের এমন প্রেমকাহিনি ঘিরে ওই এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই বিয়ের পর তরুণীর পরিবারের একাংশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে নারী পাচারের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাজিরার মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে তানজিলার সঙ্গে পাকিস্তানের লাহোরের বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসাইনের পরিচয় হয়। এরপর নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ চার বছরের সেই সম্পর্ককে পরিণতি দিতেই গত শনিবার লাহোর থেকে জাজিরায় তানজিলার বাড়িতে এসে হাজির হন ওই যুবক। পরে পারিবারিকভাবেই তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ভিনদেশি পাত্রের হাতে মেয়ে তুলে দেওয়া নিয়ে তানজিলার মা আসমা আক্তারের মনে কোনো শঙ্কা নেই। ছেলের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এত দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তাঁদের মনে কোনো ভয় নেই।
তবে পরিবারের এই স্বস্তির বিপরীতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের একাংশের মধ্যে প্রবল উদ্বেগ কাজ করছে। তানজিলার ফুফু রাত্রি আক্তার ও চাচা তোফাজ্জল শিকদারের শঙ্কা, ইদানীং প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিদেশে নারী পাচারের অনেক খবর পাওয়া যায়। বিয়ের সময় ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক উপস্থিত না থাকায় এভাবে মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। এ কারণে তরুণীকে বিদেশে পাঠানোর আগে পুরো বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করতে প্রশাসনের নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না। তবে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে ওই বিদেশির পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে কোনো ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









