কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার বছরের শিশুসন্তান, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে ওই প্রবাসীর বৃদ্ধা মা সৈয়দা খাতুন আইনগত প্রতিকার চেয়ে ঈদগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে বিকেলে গৃহবধূ সাথি শারমিন আক্তার তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে রওশন মোহাম্মদ রাফসানকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে শাশুড়ি সৈয়দা খাতুন জানতে পারেন, সাথি তাঁর কথিত প্রেমিক মোহাম্মদ সাইমুমের সঙ্গে অজ্ঞাত স্থানে পাড়ি জমিয়েছেন। অভিযুক্ত সাইমুম ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী এলাকার মোহাম্মদ কালুর ছেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক সাথির সঙ্গে ওই প্রবাসীর বিয়ে হয়। সে সময় দেনমোহর হিসেবে ছয় লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও স্বামী জীবিকার তাগিদে বিদেশে থাকার সুযোগে সাথি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। শাশুড়ির অভিযোগ, বাড়ি ছাড়ার সময় সাথি বিয়ের চার ভরি এবং অতিরিক্ত আরও দুই ভরিসহ মোট ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও আলমারিতে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।
আরও
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত গৃহবধূর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা উল্টো সৈয়দা খাতুন ও তাঁর প্রবাসী ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ লরাবাগ এলাকার বাসিন্দা আবু রশিদ, নিলুফা আক্তার ও আবু রহিমকে এই ঘটনার সাক্ষী করা হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ নাতি রাফসানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।










