ওমরাহ হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে অসুস্থ হয়ে টানা তিন বছর তিন মাস কোমায় ছিলেন ফেনীর পরশুরাম উপজেলার হেদায়েতুল ইসলাম ওরফে মানিক হুজুর (৬৫)। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের যৌথ উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাড়ি জমান হেদায়েতুল ইসলাম। ১২ ফেব্রুয়ারি মদিনায় ফজরের নামাজ পড়ার সময় দ্বিতীয় রাকাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে মদিনার কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় আইসিইউতে থাকার পর তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় বা কোমায় চলে গেছেন। সেখানে হাসপাতালে স্বজনদের থাকার সুযোগ না থাকায় তাঁর স্ত্রী একপর্যায়ে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জোরালো চেষ্টা শুরু করে পরিবার। মেজ ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইনের আনুষ্ঠানিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় সরকার। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হজ মিশন এবং সৌদি সরকারের সম্মিলিত সহযোগিতায় গত ১৩ মে বিশেষ ব্যবস্থায় তাঁকে দেশে আনা হয়। দেশে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
আরও
দেশে ফেরার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকা মেডিকেলে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু সব ধরনের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে আজ সকাল ১০টার দিকে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তাঁর এই মৃত্যুতে নিজ গ্রাম মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণীতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টানা তিন বছর একজন বিদেশিকে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় সৌদি সরকার এবং দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নিহতের প্রতিবেশী ও স্বজনেরা। আজ রাত সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করার কথা জানিয়েছেন তাঁর ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন।










