নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পুলিশ পরিচয়ে এক সৌদি প্রবাসীর মাইক্রোবাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার সাওঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে প্রবাসীর পরিবারকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ও নগদ টাকা লুটে নেয়। তবে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে কেবল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী হিমু আক্তার জানান, তিনি স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিমানবন্দর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে সাওঘাট এলাকায় পৌঁছালে পাঁচজনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে। নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে গাড়ি থামানোর পর তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। এরপর ডাকাতেরা তাঁদের কাছ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪ হাজার সৌদি রিয়াল, ৩টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১০ হাজার টাকা লুটে নেয়। এ সময় ডাকাতদের হামলায় হিমু আক্তার ও তাঁর ভাই মাহিন মিয়া আহত হন।
আরও
ডাকাতির ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ডাকাতেরা একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে দ্রুত ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী হিমু আক্তারের অভিযোগ, ডাকাতির পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং মামলা না নিয়ে উল্টো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়। মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বাধ্য হয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










