Opens in a new tab
সর্বশেষ

যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে বের করে দিলো প্রবাসীর পরিবার

Expatriate's family throws out wife after giving birth to twinsWeb Popup (3)

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় যমজ সন্তান জন্ম দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী স্বামী আজিম হোসাইন জনির পরিবারের বিরুদ্ধে। বিতাড়িত হয়ে তিন শিশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অসহায় হেলানা আক্তার (২৭)। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের পিতাম্বর গ্রামে।

ভুক্তভোগী হেলানা আক্তার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের আব্দুস ছালামের মেয়ে। ২০০৯ সালে সামাজিক ও শরীয়ত মোতাবেক তার বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের পিতাম্বর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আজিম হোসাইন জনির সঙ্গে। বিয়েতে তিন ভরি স্বর্ণ ও আসবাবপত্র যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের ঘরে এক ছেলে আলিফ জন্ম নেয়। তবে বিদেশ যাওয়ার জন্য জনি স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করলে পরিবার ঋণ করে সেই অর্থ জোগাড় করে দেয়। টাকা পাওয়ার পর তিনি সৌদি আরব চলে যান।

দেশে ফেরার পর হেলানার গর্ভধারণের খবর শুনে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গর্ভপাত করাতে চাপ দেয়। রাজি না হওয়ায় শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ছয় মাস আগে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে হেলানা যমজ সন্তান আলভী ও আসপীর জন্ম দেন। এরপর স্বামী বিদেশ থেকে ফোনে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে জানিয়ে দেন যে তিনি আর সংসার করবেন না। হেলানা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ভাবছিলাম সন্তানদের মুখ দেখে স্বামীর মন বদলাবে, কিন্তু উল্টো আমাকে একপ্রকার পথে ফেলে দিয়েছে।”

হেলানার ভাই জামাল হোসেন ও বোন মমতাজ বেগম জানান, বোনের সুখের আশায় যৌতুকের টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু গর্ভের সন্তান নষ্ট না করায় নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এখন বাবার বাড়িতে অভাব-অনটনের মধ্যে তিন সন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন হেলানা। পিতৃপরিচয় ও স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা হলেও জনি ও তার পরিবারের একগুঁয়েমির কারণে পুনর্মিলন সম্ভব হয়নি। বাকশীমূল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, সামাজিক মীমাংসা ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। স্বামীর মা হাসিনা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হেলানার আচরণ ভালো নয়, তাই ছেলে সংসার করবে না। ভরণপোষণ প্রসঙ্গে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বুড়িচং থানার ওসি আজিজুল হক জানান, মামলাটি আদালতে বিচারাধীন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

আরও দেখুনঃ

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup