ভারত মহাসাগরের অন্যতম সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্লেইন-দে-পাপাইয়েস এলাকার মসজিদ রোডে অবস্থিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চত্বরে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক কাজ চলাকালে মালপত্র খালাসের সময় বিশাল ওজনের কাচের প্যানেলভর্তি একটি বড় বাক্সের নিচে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। উন্নত ভবিষ্যতের আশায় দেশান্তরি হওয়া এই তরুণদের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে মরিশাসে বসবাসরত পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ওই তিন বাংলাদেশি শ্রমিক হলেন—মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) এবং সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)। মরিশাসের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ল্য ডেফি মিডিয়া’ ও ‘ল্য মরিসিয়েন’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে ওই তিন শ্রমিক একটি ভারী কনটেইনার থেকে মালপত্র নামানোর কাজ করছিলেন। কনটেইনারটির ভেতরে ৪১টি ভারী কাচের পাতযুক্ত বেশ বড় একটি বাক্স ছিল। প্রতিটি কাচের পাতের আকার ছিল অন্তত ছয় ফুট বাই আট ফুট। ধারণা করা হচ্ছে, মালপত্র নামানোর একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত হঠাৎ করেই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই ভারী বাক্সটি সরাসরি ওই তিন শ্রমিকের ওপর সজোরে আছড়ে পড়ে।
বিশাল ওজনের এই কাচের পাতসহ বাক্সটির নিচে আকস্মিকভাবে চাপা পড়ায় তারা নিজেদের রক্ষার কোনো সুযোগই পাননি। ফলে ঘটনাস্থলেই ওই তিন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সেখানে চরম আতঙ্ক ও শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় প্লেইন-দে-পাপাইয়েস পুলিশের একটি বিশেষ দল। এরপর সেখানে মরিশাস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের চৌকস উদ্ধারকর্মীরা এসে উপস্থিত হন। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ভেঙে পড়া কাচের বিশাল স্তূপ সরিয়ে তিন বাংলাদেশির নিথর দেহ উদ্ধার করেন।
আরও
স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য নিহত ওই তিন প্রবাসীর মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রবাসে কর্মস্থলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে এই দুর্ঘটনা নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের সহকর্মীরা। এখন নিহতদের মৃতদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদের স্বজনরা।










