রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের অঞ্চলে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে অন্তত দুজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। হামলার জেরে পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী চলমান সংসদীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের শেষ দিনে নাগরিকেরা যখন ভোট দিচ্ছেন, ঠিক তখনই বড় ধরনের এই হামলার ঘটনা ঘটল।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন এই ঘটনাকে রাজধানীর ইতিহাসে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৪৫০টি সরাসরি মস্কোর দিকে ধেয়ে আসছিল। কয়েকটি ড্রোন মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে আঘাত হেনে ক্ষতিসাধন করেছে। তবে আবাসিক ভবনে ড্রোন পড়লেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মেয়রের দাবি, রাশিয়ার নির্বাচন বানচাল করার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পিতভাবে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়েছে, তবে প্রতিপক্ষ সেই উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার পার্লামেন্ট ‘স্টেট ডুমা’-এর ৪৫০টি আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনে এবার ১১ কোটি ১০ লাখের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিয়ভ রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ম্যাক্স’-এ জানিয়েছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় রামেনস্কি জেলায়। সেখানে ২১ তলা বিশিষ্ট একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ছাদে ড্রোন আছড়ে পড়লে আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে অন্তত ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ২০টি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সোফাইনো এলাকায় একটি তিন তলা ভবনে ড্রোনের আঘাতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ওরেখোভো-জুয়েভো জেলায় একজন নিহত এবং লেনিনস্কি জেলায় আরও একজন আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি।










