ইরানকে সমর্থন এবং বাহরাইনকে অস্থিতিশীল করে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দেশটিতে শিয়া ধর্মীয় নেতাদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বাহরাইনের কর্মকর্তারা এই কঠোর অভিযানকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাহরাইনের শাসকরা সুন্নি মতাদর্শী হলেও দেশটির বেশিরভাগ নাগরিক শিয়া সম্প্রদায়ের। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ জন শিয়া ধর্মীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানি বংশোদ্ভূত ৬৯ জন নাগরিকের নাগরিকত্বও বাতিল করেছে বাহরাইন সরকার।
বাহরাইনের জননিরাপত্তা সংস্থার প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল তারিক আল হাসান রয়টার্সকে জানান, তারা এমন একটি উগ্র মতাদর্শকে প্রতিহত করছেন, যারা বাহরাইনের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে ইরানের নেতাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরপাকড়কে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা বলে তীব্র সমালোচনা করেছে। এর আগে ২০১১ সালেও বাহরাইনে শিয়াদের নেতৃত্বে বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়েছিল, যা অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করতে সক্ষম হয়েছিল ক্ষমতাসীন সুন্নি সরকার।
সাম্প্রতিক এই ব্যাপক ধরপাকড়ের পেছনে বড় কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। গত ২৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর, ইরানি বাহিনীও বাহরাইনে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালায়। মূলত বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। আর ইরানে হামলার সময় এই ঘাঁটির ব্যাপক ব্যবহার হওয়ায় বাহরাইন এখন ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে এখন আরও বেশি অস্থির করে তুলেছে।
আরও
আরও দেখুন










