ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে ইরানের প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থন প্রদর্শনের অভিযোগে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ বাহরাইন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি ও বাহরাইনের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ‘দ্য বাহরাইন নিউজ এজেন্সি’র (বিএনএ) এক প্রতিবেদনে গতকাল সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাহরাইন সরকারের এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাহরাইন নিউজ এজেন্সির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইরানের শত্রুতাপূর্ণ এবং অপরাধী কার্যক্রমের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ ও প্রশংসা করার দায়ে’ দেশটির হাই ক্রিমিনাল কোর্ট এই ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যাঁরা একই পরিবারের সদস্য। জানা যায়, যুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যে ইরানের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং সমর্থন জানানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত মার্চ মাসেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল বাহরাইন সরকার। এরপর দেশটির হাই ক্রিমিনাল কোর্টে তাঁদের বিচারকাজ শুরু হয় এবং সর্বশেষ গত সোমবার এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। এই সংকট নিরসনে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরও কোনো স্থায়ী মীমাংসা হয়নি। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জের ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আকস্মিক যৌথ বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যার মাধ্যমে মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
আরও
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওই অতর্কিত হামলার কড়া জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬টি দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এসব হামলায় মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি এই ৬ দেশের বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি ও জ্বালানি অবকাঠামোর গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন। এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে কুয়েত এবং বাহরাইন। পরবর্তীতে গত ৮ এপ্রিল থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।










