ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বাহরাইনে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই ধরপাকড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন এবং বাহরাইনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বিএনএ-এর (BNA) বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত বিদেশি শক্তির সঙ্গে মিলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার গুরুতর অভিযোগেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাহরাইনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, ব্যাপক এই গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বাহরাইনের ওপর ইরানের হামলার প্রতি সমর্থন জানানোর অভিযোগে বেশ কয়েক ডজন ব্যক্তির নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে। এমন এক সময়ে এই বড় পরিসরে অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো, যখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ইরানের সঙ্গে যুক্ত বা সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বাহরাইন সরকার।
গ্রেপ্তারকৃত এই ৪১ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিরা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যে ইরানের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে তারা বাহরাইনের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে বিদেশি সংস্থা ও শক্তির সঙ্গে মিলেমিশে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীরভাবে ষড়যন্ত্র করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আরও
উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও বাহরাইনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাহরাইন সরকার প্রথম থেকেই তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবং শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে ইরানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে আসছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের গ্রেপ্তার এবং নাগরিকত্ব বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে মানামা প্রশাসন মূলত তেহরান ও এর মিত্রদের প্রতি একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










