যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হুতি বিদ্রোহীদের গোপনে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এমন বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত ও তাদের সমর্থিত ইয়েমেনি গোষ্ঠীগুলো হুতিদের লক্ষ্য নির্ধারণে সরাসরি সাহায্য করছে।
জানা গেছে, সানা-ভিত্তিক হুতি প্রশাসনের সঙ্গে আবুধাবির একটি গোপন যোগাযোগের চ্যানেল এখনো সক্রিয়। তবে এই সহায়তা মূলত ইয়েমেনের ভেতরে থাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ; সৌদির ভূখণ্ডে হামলার জন্য নয়। বিষয়টি জানতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আমিরাতকে কড়া সতর্ক করে এই তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। তারপরও গোপনে এই গোয়েন্দা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
আমিরাতের এমন উল্টো রথের কারণ হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে একজোট হয়ে নামলেও পরে স্বার্থের সংঘাতে দুই দেশের পথ আলাদা হয়ে যায়। আমিরাত মূলত দক্ষিণ ইয়েমেনে প্রভাব বিস্তার এবং ব্রাদারহুডপন্থী ইসলাহ পার্টিকে দমাতে ব্যস্ত। মিত্রদের এই দ্বন্দ্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি হুতিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যার ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে।
আরও
যদিও আমিরাত এবং হুতি নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এমন গোপন আঁতাতের খবর সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে দুই মিত্র দেশ সৌদি-আমিরাতের এই ছায়াযুদ্ধ ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে চরম মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত আগস্ট থেকে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্ব শুধু আঞ্চলিক রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সূত্র : ড্রপ সাইট নিউজ








