ভারতের ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন স্থানে আকাশ রক্তলাল হয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দান্তেওয়াড়া ও কিরান্দুলের মতো এলাকার এসব ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ব্যবহারকারীদের দাবি, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্ট তীব্র আবহাওয়ার সতর্কতার মধ্যেই এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে ছত্তিশগড়ের আকাশের উজ্জ্বল লাল রঙের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টির সম্পর্কের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সে সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ অর্ণবকে ‘অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ফসল ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে, মৎস্য আহরণ ব্যাহত হয়েছে এবং যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত্যুও হয়েছে পাঁচজনের।
আরও
কেন রক্তবর্ণ ধারণ করে আকাশ
যদিও অতীতে অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগে এমন প্রলয়ংকরী দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র বাতাস প্রচুর পরিমাণে ধুলোবালি অথবা আয়রনসমৃদ্ধ লাল মাটি উড়িয়ে বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচুতে ছড়িয়ে দিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ক্ষেত্রেও সম্ভবত এমনটাই ঘটেছে, যার ফলে ছত্তিশগড়ের আকাশ অস্বাভাবিকভাবে লাল হয়ে উঠেছিল। এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সৃজনশীলতা প্রকাশেরও সুযোগ করে দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী জ্বলন্ত লাল আকাশকে নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন করেছেন, ‘সবকিছু কি উল্টে গেছে?’
অন্য একজন ব্যবহারকারী ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এরই আরেকটি প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেছেন, ‘ভেকনা আসছে।’ কেউ কেউ আবার এই আকাশকে ‘ইভিল ডেড’ সিনেমার সেটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অনেকে আবার সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ‘নারেল’-এর সময়ও এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, যখন সেটি মহাদেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ডেনহাম এলাকায় আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল স্যাটেলাইট, ডেটা অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ওই অঞ্চলের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন বা লোহা থাকে, যা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জারিত হয়ে ওঠে। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র বাতাসে যখন এই মাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তখন আকাশ দেখতে অনেকটা মঙ্গল গ্রহের মতো হয়ে ওঠে।









