সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো পুরুষকে শারীরিকভাবে ব্যথা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষক যদি নারী হন, তবে পুরুষরা তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভব করেন। একইভাবে, অস্ত্রোপচারের পর ব্যথার মাত্রা জানতে চাওয়ার ক্ষেত্রেও নারী চিকিৎসকদের কাছে পুরুষ রোগীরা কম ব্যথার কথা প্রকাশ করেন।
গবেষক আনা সেলগ্রেন ইংস্কভের নেতৃত্বে তিনটি ধাপে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। প্রথম দুটি পরীক্ষায় সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে লেজার ও বৈদ্যুতিক প্রবাহের মাধ্যমে ব্যথা দেওয়া হয়। গবেষকরা অবাক হয়ে লক্ষ করেন, পরীক্ষক নারী হলে একই মাত্রার ব্যথা বোঝাতে অংশগ্রহণকারীদের শরীরে আরও তীব্র মাত্রার উদ্দীপনা প্রয়োগ করতে হয়েছে। অথচ পরীক্ষা চলাকালীন নারী ও পুরুষ পরীক্ষকরা একদম একই ধরনের নিরপেক্ষ পোশাক ও কথা ব্যবহার করেছিলেন।
পরবর্তী ধাপে ২৪৫ জন সদ্য অস্ত্রোপচার হওয়া রোগীর ওপর জরিপ চালানো হয়। সেখানেও দেখা যায়, পুরুষ রোগীরা নারী গবেষকের কাছে নিজেদের কষ্ট কম প্রকাশ করেছেন। গবেষকদের ধারণা, নারীদের স্বভাবজাত সহমর্মিতা, হাসি বা সরাসরি চোখের দিকে তাকানোর মতো নীরব যোগাযোগের ধরনগুলো হয়তো রোগীদের ব্যথার অনুভূতি কমিয়ে দেয়। ব্যথা মূল্যায়নে লিঙ্গভিত্তিক এই পার্থক্য ভবিষ্যতে রোগীদের আরও উন্নত সেবা ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
আরও
সূত্র: লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট









