সর্বশেষ

‘কিডনি আবার গজাবে’ দালালের প্রতারণায় যে গ্রাম হয়ে ওঠে কিডনি ভ্যালি

6ac34c05aaee8Web Popup (3)

দারিদ্র্যের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নেপালের একটি গ্রামের অসংখ্য মানুষকে কিডনি বিক্রির ফাঁদে ফেলেছিল দালাল চক্র। প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাসে একসময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ নিজেদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। হতদরিদ্র এসব মানুষকে এমন কথাও বলা হয়েছিল যে, একটি কিডনি বিক্রি করলে কোনো সমস্যা তো হবেই না, বরং সেটি শরীরে আবার গজিয়ে উঠবে! ভয়ংকর এই প্রতারণা ও কিডনি বিক্রির কালো ইতিহাসের কারণেই নেপালের হোকসে গ্রামটি বিশ্বজুড়ে ‘কিডনি ভ্যালি’ বা কিডনি উপত্যকা নামে পরিচিতি পায়।

কিডনি বিক্রির এমন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চা ও রাম। আর্থিক সংকটে পড়ে কিডনি বিক্রি করা কাঞ্চা অস্ত্রোপচারের পর থেকে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন; ব্যথার কারণে এখন আর আগের মতো ভারী কাজও করতে পারেন না তিনি। কাঞ্চা জানান, শুধু তাঁর গ্রামই নয়, আশপাশের বহু এলাকার মানুষ দালালদের এমন মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে কিডনি খুইয়েছেন। কিডনি কেনাবেচা অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে হোকসে ও এর আশপাশে সক্রিয় ছিল পাচারকারীরা। এসব প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই পরবর্তীতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন, এমনকি অস্ত্রোপচারের জটিলতায় কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্থানীয়রা ‘কিডনি ভ্যালি’র এই কলঙ্কজনক বদনাম থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের চরম অভাব দেশটিতে নতুন করে পাচারের ঝুঁকি তৈরি করছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে কাজের আশায় থাকা দরিদ্র নেপালিদের একটি অংশ চরম বাস্তবতার শিকার হয়ে কিডনি বিক্রির মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে তীব্র গরম ও কঠোর কর্মপরিবেশে কাজ করে অনেক নেপালি শ্রমিক কিডনি বিকল অবস্থায় দেশে ফিরছেন, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

এরই মধ্যে নেপাল-ভারত সীমান্ত ব্যবহার করে নতুন উপায়ে কিডনি পাচারের ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব লেবার অ্যান্ড মোবিলিটির (সিইএসএলএএম) ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র নেপালিদের ভারতে নিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক কিডনি অপসারণ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে সিন্ধুলির এক ব্যক্তিকে এভাবেই ভারতে নিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রেখে জোর করে তাঁর বাঁ কিডনি কেটে নেওয়া হয়। বিনিময়ে ছয় লাখ রুপি দেওয়ার কথা থাকলেও দেশে ফেরার সময় তাঁর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মাত্র ১০ হাজার নেপালি রুপি। নেপালের অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফ্যাকিং ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে, বিদেশে চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অঙ্গ পাচারের এমন ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কিছু নয়; দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সুযোগ নিয়েই চক্রটি ফের বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup