ওমানের দুকম বন্দরে নোঙর করা ‘সেলেস্টিয়াল’ নামের একটি জাহাজে অবস্থানরত এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) রাতে মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজে অবস্থানকালে ওই নাবিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত ওই নাবিকের মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সামুদ্রিক পরিবহন খাতে ভারতীয় নাবিকদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে বর্তমানে তিন লাখেরও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত। এর মধ্যে কেবল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় ১৮ হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, দুকম বন্দরের এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই ওমান উপকূলে একটি ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। পরপর নাবিকদের এমন প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের সাধারণ জনগণ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠিতব্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন (G-7) শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বেসামরিক জাহাজে হামলার বিষয়টি যেন ভারত জোরালোভাবে উত্থাপন করে, সে জন্য মোদির প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা।
আরও
ওমান উপকূলে ট্যাংকারে হামলার ঘটনার ইতিমধ্যে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই ঘটনার পর মার্কিন ‘চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স’কে তলব করে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এ ধরনের হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। শুধু তা-ই নয়, হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকেও দ্বিতীয়বারের মতো তলব করে ভারত সরকার। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা ভারতের এই পদক্ষেপকে একটি বিরল ও অত্যন্ত কঠোর কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই মূল্যায়ন করছেন।








