যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ধরনের মাংসখেকো পরজীবী কৃমি নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম (এনডব্লিউএস)-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিষেবা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে দু’জন মানুষ এই পরজীবীতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে একজন সম্প্রতি এল সালভাদর ভ্রমণ করে ফেরার পর শনাক্ত হন, আরেকজন গুয়েতেমালা সফর শেষে একই কৃমিতে আক্রান্ত হন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।
সরকারি দপ্তর সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, আক্রান্তদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, এনডব্লিউএস যুক্তরাষ্ট্রে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি নয় এবং এর সংক্রমণ ঝুঁকি খুবই সীমিত। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের দাবি, দু’বছর আগে থেকেই এই পরজীবী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে এবং এরই মধ্যে গবাদিপশুপালনের সঙ্গে যুক্ত অন্তত দুই ডজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।
নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম আসলে এক প্রজাতির ডাঁশ মাছির লার্ভা। স্ত্রী মাছি স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষতস্থানে ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বের হওয়া শত শত লার্ভা দ্রুত মাংস খাওয়া শুরু করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত প্রাণীকে তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়। গবাদি পশুর ক্ষেত্রে এই পরজীবী ভয়াবহ হলেও মানুষের দেহে সংক্রমণ খুবই বিরল।
আরও
তবে খামারি ও মাংস শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রথম গবাদিপশুর শরীরে এই কৃমি শনাক্ত হয়। সেখানে অন্তত ২৪ জন মানুষও সংক্রমিত হয়েছেন বলে সিডিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে টেক্সাসের ১৮০ কোটি ডলারের গবাদিপশু শিল্প ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি টেক্সাস সফরে গিয়ে মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যে ডাঁশ মাছির কারণে এই পরজীবী ছড়াচ্ছে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্মূল করতে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেবে। তবে গবেষক ও খামারিদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
আরও দেখুনঃ












