মক্কায় একটি বৃহৎ বিনোদন প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তপ্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো কাবা ও মসজিদে হারামের নিকটবর্তী এলাকায় সিনেমা হল নির্মাণের সম্ভাবনা। যদিও সরকারি নথি অনুযায়ী প্রকল্পটি হারামের সীমানার বাইরে, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আল-আবিদিয়া জেলায় অবস্থিত।
দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে সৌদি প্রকৌশলী দাবি করেছেন যে ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবার কাছাকাছি একটি বড় বিনোদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সৌদি সরকার। এই পরিকল্পনা “স্মার্ট মক্কা” প্রকল্পের অংশ, যার লক্ষ্য আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থাকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সমন্বিত করা। প্রকল্পটি সৌদি এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারসের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
মক্কার সিনেমা প্রজেক্টের মোট খরচ প্রায় ১৩০ কোটি সৌদি রিয়াল। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান মডার্ন বিল্ডিং লিডারস এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রজেক্টটির এলাকা প্রায় ৮০ হাজার বর্গমিটার এবং এটি মক্কায় সিনেমা হল নির্মাণকে দেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখায়। ২০১৮ সালে দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা সিনেমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পর সৌদি আরব এ ধরনের বিনোদন উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের আধুনিকীকরণ এবং ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
আরও
ভিডিও প্রকাশের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষ এটিকে আধুনিকীকরণ এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে অনেকেই ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে কাবা ও মসজিদের কাছাকাছি বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
তবে সৌদি কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে নতুন প্রকল্পগুলো মক্কার পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করবে না। তারা বলছেন, এই ধরনের উন্নয়ন শহরের অবকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি ধর্মীয় গুরুত্বও সংরক্ষণ করবে। চলতি আগস্ট মাসে সৌদি এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারস মক্কা সিনেমার চূড়ান্ত অনুমোদিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এবং নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।












