যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে অনেক অভিবাসীই শুরুতেই এমন কিছু আর্থিক ভুল করে বসেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভবিষ্যতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ, কর প্রদান, চিকিৎসাব্যয় ও অবসরকালীন সঞ্চয়ের ওপর। বাংলাদেশি নতুন অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত অনেক পরামর্শের মধ্যে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্যও থাকে। তাই শুরু থেকেই কয়েকটি বিষয়ে সঠিক ধারণা রাখা জরুরি।
আর্থিক লেনদেন ও ঋণযোগ্যতার ইতিহাস বা ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি না করা নতুনদের একটি বড় ভুল। যুক্তরাষ্ট্রে বাসাভাড়া, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির ঋণসহ নানা আর্থিক বিষয়ে এই ক্রেডিট স্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুনদের অনেকেরই শুরুতে কোনো আর্থিক ইতিহাস থাকে না। এ ক্ষেত্রে জামানতভিত্তিক বা সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। তবে ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া ফেলে রাখলেই স্কোর ভালো হয়—এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সময়মতো পুরো বিল পরিশোধ করলে উল্টো সুদের খরচ এড়ানো যায়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো নতুন ঋণের হিসাব খোলার আবেদন করা থেকেও বিরত থাকা উচিত।
কর দেওয়া নিয়ে নতুন অভিবাসীদের মধ্যে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। যেমন বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয় হলেই সবাইকে করের হিসাব জমা দিতে হবে—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। কর কে দেবেন, তা নির্ভর করে আয়ের ধরন, পরিমাণ, বয়স ও পারিবারিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। তবে নিজে কাজ করে বছরে অন্তত ৪০০ ডলার নিট আয় হলে সাধারণত করের হিসাব ও স্বকর্মসংস্থান করের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, নগদে আয় করলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে করের বাইরে চলে যায় না।
আরও
অনেকেই সুস্থ আছেন ভেবে স্বাস্থ্যবিমা বা ইনস্যুরেন্স না নেওয়ার ঝুঁকি নেন। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ আকাশচুম্বী হতে পারে, তাই চিকিৎসা বিমা না থাকার সিদ্ধান্তটি বেশ বিপজ্জনক। তবে সবার জন্য মাসে ৫০ থেকে ১৫০ ডলারে বিমা পাওয়া যাবে, এমন ধারণাও সঠিক নয়। আয়, বয়স, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের এলাকা ও নির্বাচিত পরিকল্পনার ওপর বিমার খরচ নির্ভর করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে অনেকের বিমার খরচ আগের তুলনায় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাকরির ক্ষেত্রে অবসরকালীন সঞ্চয়ের সুবিধা বা রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়াও জরুরি। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীর জমা দেওয়া অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যোগ করে দেয়। তবে কোম্পানির দেওয়া অর্থের পুরো মালিকানা পেতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেই চাকরিতে বহাল থাকতে হয়। তাই চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরই মানবসম্পদ বিভাগ থেকে এসব নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো। অন্যদিকে, দৈনন্দিন খরচের জন্য চলতি হিসাব বা চেকিং অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদি জরুরি সঞ্চয়ের জন্য সুদ পাওয়া যায় এমন সঞ্চয়ী হিসাব খোলা উচিত। হিসাব খোলার আগে ব্যাংকের সুদের হার, অতিরিক্ত কোনো খরচ বা টাকা তোলার নিয়মকানুন যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
নতুন অভিবাসীদের সুবিধার্থে দেশটির ডাক বিভাগের একটি বিনা খরচের সেবাও বেশ কাজে লাগতে পারে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পার্সেলের অবস্থান ও চিঠির ছবি আগেই দেখা যায়, যা গুরুত্বপূর্ণ নথি হারানোর ঝুঁকি কিছুটা কমায়। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রথম কয়েক মাসে সঠিক আর্থিক ইতিহাস তৈরি, করের তথ্য প্রদান, চিকিৎসা বিমা গ্রহণ এবং সঞ্চয়ের সঠিক হিসাব বেছে নেওয়ার মতো পদক্ষেপগুলো একজন নতুন অভিবাসীর ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে এসব নিয়ম মানলেই যে সবার সমান অর্থ সাশ্রয় হবে তা নয়, বরং আয়ের পরিমাণ, অঙ্গরাজ্য ও জীবনযাত্রার মানের ওপরই তা অনেকাংশে নির্ভর করে।











