ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক ও নিরাপত্তা জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। এই যৌথ জোটের মাধ্যমে দেশ দুটি উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ও বিশেষ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে চায়। ইউক্রেনের এই উদ্যোগে রিয়াদের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে জানা গেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই এই জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় ড্রোন চুক্তির বিষয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ফোনালাপ হয়েছে। আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে ড্রোনবিধ্বংসী নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লে রিয়াদ ও কিয়েভ উভয়েরই সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা চুক্তি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও
এর আগে গত ২৬ মার্চ রিয়াদ সফরে গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক নিরাপত্তা চুক্তি সই করেছিলেন জেলেনস্কি। ওই সময় থেকেই ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও জর্ডানের মতো দেশগুলোতে ড্রোন প্রতিরক্ষায় সরাসরি কাজ শুরু করেন। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধে প্রতিনিয়ত ইরানি ড্রোনের হামলার মুখে পড়ে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী এই ড্রোন প্রতিরক্ষায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে ইরানি প্রযুক্তি ধ্বংস করতে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিশ্বে অনন্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রিয়াদও এখন নিজেদের আকাশসীমার সুরক্ষা আরও জোরদার করার বড় সুযোগ দেখছে।










