এক সময় মধ্যপ্রাচ্যের নারীরা গড়ে সাতটি সন্তানের জন্ম দিতেন, কিন্তু ২০১০ দশকের শুরুতে সেই হার কমে তিনে নেমে এসেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নাটকীয় হ্রাসের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের একটি গভীর ধারা, যা বিশেষজ্ঞরা ‘নীরব বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (UNFPA) তথ্যানুসারে, বিশ্বজুড়েই জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যেও এই ধারা এখন স্পষ্ট। ১৯৬০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলের মোট জন্মহার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই হার ১.২—যা জার্মানির গড় হার থেকেও নিচে। এই প্রবণতা নগরায়ন, নারী শিক্ষার প্রসার, গর্ভনিরোধক ব্যবহারে সচেতনতা, ও কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিবাহপ্রথার খরচ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ব্যাপক কারণ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্সিয়া ইনহর্ন বিষয়টিকে ‘ওয়েটহুড’ বলে উল্লেখ করেছেন—যেখানে তরুণ-তরুণীরা উপযুক্ত সঙ্গী কিংবা আর্থিক প্রস্তুতির অপেক্ষায় বিয়ে বিলম্ব করছেন বা এড়িয়ে চলছেন।
আরও
বিশ্বজুড়েই জন্মহার কমে যাওয়ার ফলে জনসংখ্যার গড় বয়স বেড়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোর মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকেও ভবিষ্যতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশনের চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে—তবে পশ্চিমা দেশের মতো শক্তিশালী অর্থনীতি ছাড়া। যদিও কিছু চিন্তাবিদ যেমন নিকোলাস এবারস্ট্যাড এটিকে এক ইতিবাচক সামাজিক রূপান্তর হিসেবে দেখছেন, যেখানে উন্নত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মানব উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
এই ‘নীরব বিপ্লব’ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক জনতাত্ত্বিক রূপান্তরের প্রতীক। এটি আমাদের প্রজাতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে—সে প্রশ্নও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, সমাজ, সরকার এবং বিশ্ব কতটা প্রস্তুত এই নতুন বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করতে।









