ভারতের চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই চলন্ত বিমান থেকে এক যাত্রীর লাফ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (৩ মে) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে আসা একটি ফ্লাইটে এই অদ্ভুত ও বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে। বিমানটি মূল রানওয়ে স্পর্শ করার পর ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে টার্মিনালের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল। পুরোপুরি থামার আগেই ওই যাত্রী হঠাৎ বিমানের জরুরি বহির্গমন দরজা (ইমার্জেন্সি এক্সিট ডোর) খুলে নিচে লাফ দিলে ফ্লাইটে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চেন্নাই বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্যাক্সিওয়েতে থাকা অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিমানবন্দরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, “হ্যাঁ, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। বিমানটি তখনো ধীরগতিতে চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ওই যাত্রী হঠাৎ দরজা খুলে নিচে লাফ দেন।” তবে সৌভাগ্যবশত এই দুঃসাহসিক ও বিপজ্জনক কাজের পরও ওই যাত্রীর কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং বিমানেরও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
আরও
ঠিক কী কারণে ওই যাত্রী এমন ভয়ানক পদক্ষেপ নিলেন, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু ধোঁয়াশা তৈরি হলেও একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যাত্রার সময় তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সূত্রটি জানায়, ফ্লাইটে থাকাকালীন ওই যাত্রী অন্তত দুবার বমি করেন এবং অসুস্থতাজনিত শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি বা আতঙ্ক থেকেই তিনি হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক কাজ করে বসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিছকই অসুস্থতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলন্ত বিমান থেকে যাত্রী লাফ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লাইটের পাইলট বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ভারতের সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (সিআইএসএফ) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যাত্রীকে আটক করেন। পরে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাঁকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে চেন্নাই বিমানবন্দরের প্রধান রানওয়ের কার্যক্রম প্রায় এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।










