বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে ভিসা পেতে বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। ভারতের চেন্নাইয়ে এশিয়ান কলেজ অব জার্নালিজমে ফুল স্কলারশিপে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর কোর্সে সুযোগ পেলেও ভিসা না পাওয়ায় এখনো ক্লাসে যোগ দিতে পারেননি রিগ্যান মোর্শেদ (ছদ্মনাম)। গত ১১ জুন আবেদন করার পরও ভারতীয় ভিসা না পাওয়ায় তার মধ্যে স্কলারশিপ হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু রিগ্যান নন, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা কিংবা ভ্রমণ—সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশিদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ভারত, থাইল্যান্ড, চীন, তাজিকিস্তান থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতেও ভিসা পাওয়া যেন এখন অনেকটাই দুর্লভ। কেউ কেউ একাধিকবার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এবং বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও নতুন ভিসা পাচ্ছেন না। ভ্রমণ ব্লগার নাদির নিবরাস, যিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার বৈধ ভিসাধারী, তিনিও তাজিকিস্তান, মলদোভা ও বাহরাইনের ই-ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের শিকার হয়েছেন।
ভারতীয় ভিসা পরিস্থিতিও খুব একটা ভিন্ন নয়। গত বছর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারত প্রায় সব ক্যাটাগরির ভিসা কার্যত বন্ধ রেখেছে। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে ভিসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে সেখানেও আবেদনকারীদের অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাইকমিশনের জনবল সংকট ও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের শীতলতা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও
এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানাচ্ছেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহামা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এক শিক্ষার্থী বলেন, দুই বছরের প্রস্তুতি নিয়েও মাত্র দুই মিনিটের সাক্ষাৎকারে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এমনকি গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মীর মুগ্ধর ভাইও স্ত্রীসহ ভিসা পাননি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রবণতা অন্যতম কারণ। ভ্রমণসেবায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও বলছে, আগে যেসব দেশে সহজে ভিসা মিলত, এখন সেগুলোর ক্ষেত্রেও কঠোরতা বেড়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারকে কূটনৈতিক পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।











