মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিতর্কিত বিল পাস করেছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োভ গ্যাল্যান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর তাদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এ বিলটি গৃহীত হয়।
পার্লামেন্টে বিলটির পক্ষে ২৪৩ এবং বিপক্ষে ১৪০ ভোট পড়ে। রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি চিপ রয় ও ব্রায়ান মাস্ট এই বিলের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এখন বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে। সিনেটে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বিলটি আরও শক্তিশালী সমর্থন পাবে।
বিলটি আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্দেশ্যে প্রণীত। এর আওতায় সেসব কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে যারা নেতানিয়াহু বা গ্যাল্যান্টের গ্রেফতার, আটক বা তদন্তের সঙ্গে জড়িত। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মার্কিন সম্পদ স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা
আরও
মার্কিন ভিসার সুবিধা বাতিল
২০২৩ সালে আইসিসি গাজায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধ অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও গ্যাল্যান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর ফলে ১২৬টি দেশের মধ্যে এই দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের সুযোগ তৈরি হয়।


বিলটি পাস হওয়ার পর মানবাধিকার আইনজীবী ও প্রতিনিধি পরিষদের কিছু সদস্য এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রতিনিধি ইলহান ওমর বলেন, “যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইরত মানবাধিকারকর্মীদের সমর্থন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
আরেক প্রতিনিধি রাশিদা তালিব বলেন, “এই বিল নেতানিয়াহুকে রক্ষার জন্যই তৈরি করা হয়েছে, যাতে তিনি গাজায় তার অপরাধ চালিয়ে যেতে পারেন।”
গাজার পরিস্থিতি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ব্রিটেনের চিকিৎসা সাময়িকী ল্যান্সেট জানিয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, যা ৬৪ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিলটি নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের সুরক্ষার নজির স্থাপন করবে, যা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে।












