মৃত্যুদণ্ডের বিধান সম্পূর্ণ বাতিল করে এক নতুন ইতিহাস গড়েছে লেবাননের পার্লামেন্ট। একই সঙ্গে আগে দেওয়া সব মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পার্লামেন্টের স্পিকারের কার্যালয় থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত সাজার বিধান বিলোপ করল লেবানন।

লেবাননে হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডের বিধান চালু ছিল। তবে ২০০৪ সাল থেকে দেশটিতে দৃশ্যত কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তা সত্ত্বেও বিদ্যমান আইনের কারণে কয়েক ডজন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দী ছিলেন। গত বছর দেশটির আইনপ্রণেতারা এই বিধান বিলোপের জন্য একটি খসড়া আইন প্রস্তাব করেন, যা গতকাল পার্লামেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
আরও
লেবাননের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য লেবানন একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মরায়েফ বলেন, মৃত্যুদণ্ড বাতিল লেবাননের মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিশাল মাইলফলক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার যে অলিখিত রীতি ছিল, সেটিকে এবার স্থায়ী আইনি সুরক্ষায় রূপ দেওয়া হলো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দীর চাপ কমাতেও উদ্যোগী হয়েছে লেবানন। এর অংশ হিসেবে কিছু নির্দিষ্ট লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে বন্দীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে একটি পৃথক আইন প্রণয়নের বিষয়েও বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্টে জোরালো আলোচনা চলছে।










