রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার বাসিন্দা ৯ বছরের শিশু আরিফিন ইসলাম আরফা। জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় মাকে হারিয়েছিল সে, আর গত ১৮ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন তার একমাত্র আশ্রয় বাবা তাজুল ইসলাম। এত অল্প বয়সেই মা-বাবা দুজনকেই হারিয়ে একেবারে এতিম হয়ে পড়া তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় ও দিশাহারা অবস্থায় পড়েছে তার পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মারুফা আক্তার দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরফার জন্মের পরপরই শারীরিক জটিলতায় মারুফা মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাজুল আর বিয়ে করেননি; একাই মেয়ের মা ও বাবার ভূমিকা পালন করতেন। তিনি একটি মুদিদোকান চালানোর পাশাপাশি টিসিবির ডিলার ছিলেন। যক্ষ্মা, করোনা ও চিকুনগুনিয়া থেকে সেরে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গু তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়।
আরও
তাজুলের মৃত্যুর পর পরিবারটি এখন বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে। বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য তাজুল কোনো সঞ্চয় করে যেতে পারেননি; উল্টো তাঁর মৃত্যুর পর পাওনাদারেরা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। একদিকে দেনা শোধ, অন্যদিকে পিতৃহীন শিশুটির ভবিষ্যতের চিন্তা—সব মিলিয়ে পরিবারটি চোখে অন্ধকার দেখছে। দাদি সখিনা বেগম নাতনিকে মায়ের আদরে বড় করছেন। তবে নিজের বয়সের কথা ভেবে তিনি আরফার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। নাতনির সহায়তায় সরকার বা বিত্তবান কেউ পাশে দাঁড়ালে আপত্তি করবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।


রামপুরা একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী আরফা এখন দাদির সঙ্গেই স্কুলে যায়। নিজের মুঠোফোনে মা-বাবার কবর ও বিয়ের ছবি দেখিয়ে স্মৃতিচারণ করে শিশুটি। বাবার কথা মনে পড়লে সে জানায়, বাবা তাকে নিজের দোকানে ও ঘুরতে নিয়ে যেতেন। হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা অবস্থায় বাবা তাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশ্বাস দিয়েছিলেন। মা-বাবা হারানো ছোট্ট আরফা এখন প্রিয় বিড়াল ‘ভুতুম’ আর রংপেনসিল নিয়ে ছবি এঁকেই নিজের মন খারাপ ভোলার চেষ্টা করে।
আরও দেখুন









