জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রাডো গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে ‘লংড্রাইভ’ করেছেন। গাড়িটি ওই নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার উপহার, নাকি আওয়ামী লীগের সম্পদ দখলের উদ্দেশ্য থেকে নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আলোচনায় নাসীরুদ্দীন প্রায়ই আওয়ামী লীগের ধনসম্পদ দখলের কথা বলতেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
একই পোস্টে গত ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী। তিনি দাবি করেন, এই লংমার্চের প্রধান লক্ষ্য ছিল আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট তৈরি করা। রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, লংমার্চ থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বা জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচারের দাবিতে কোনো জোরালো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বরং উসকানিমূলক স্লোগান ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে বিএনপি বা তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো জামায়াতের এই ‘পাতানো ফাঁদে’ পা দেয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি নাসীরুদ্দীনের বিরুদ্ধে এনসিপি কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান তিনি।
আরও
উল্লেখ্য, জনদুর্ভোগ নিরসন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং অন্যতম বক্তা ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রায় দেড় হাজার যানবাহনের বহর নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে কুমিল্লা ও ফেনীতে পথসভা শেষে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচিটি শেষ হয়। ১১ দলীয় এই জোটের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সারের সংকট দূর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনে দলীয়করণ রোধ করা।











