ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ মডেল মসজিদের সাদা মার্বেল টাইলসে কালো কালিতে লেখা হয়েছে প্রেমের বার্তা, যুগলের নাম ও হৃদয়চিহ্ন। পবিত্র এই উপাসনালয়ের এমন অবমাননা ও সৌন্দর্যহানির ঘটনায় এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার রাতে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রোববার দিনভর বিভিন্ন মহলে এটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতে দেখা যায়।
মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমীর প্রকাশ করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, মসজিদের সিঁড়ি, রেলিংসংলগ্ন মার্বেল পাথর ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বাংলা ও ইংরেজিতে নানা বার্তা লেখা। একটি টাইলসে লেখা, ‘হে আল্লাহ আমাদের দুইজনের প্রতিটি কথা কবুল করে নিও’, যার পাশে আঁকা রয়েছে একটি হৃদয়চিহ্ন। অন্য টাইলসগুলোতে ইংরেজিতে ‘Faria + Ziha’, ‘R + J’ এবং ‘My Best Friend’-এর মতো নানা শব্দ ও তারিখ লিখে রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, এসব লেখার সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে স্বাধীনভাবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
মসজিদের এমন পরিস্থিতি নিয়ে ইমাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মডেল মসজিদকে সাক্ষী রেখে প্রেম নিবেদন।’ অবৈধ প্রেমের পরিবর্তে বিয়ে করে সম্পর্ককে বৈধ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি তরুণ-তরুণীদের সতর্ক করে জানান, মসজিদের চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং সবকিছু রেকর্ড হচ্ছে। এসব রেকর্ড প্রকাশ পেলে সম্মানহানির আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি রসিকতার ছলে লেখেন, ‘বিশ্বেশ্বরীর বাবুরা! বি কেয়ারফুল।’ সেই সঙ্গে তিনি মসজিদের টাইলসে প্রেমের কাহিনি লিখে পবিত্র এই স্থাপনার সৌন্দর্য নষ্ট না করারও আহ্বান জানান।
আরও
এ প্রসঙ্গে মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী জানান, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং একটি পবিত্র স্থান। সেখানে এ ধরনের অনুচিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে অনেককে সেখানে ধূমপান করতেও দেখা গেছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মসজিদের পবিত্রতা, সার্বিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ সবাইকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই খতিব।









