উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপের দেশ ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন তাঁদের পরিবারের জন্য চরম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দালালদের মাধ্যমে অবৈধপথে লিবিয়ায় যাওয়ার পর গত প্রায় আট মাস ধরে মানব পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি তাঁদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও ও ছবি ইমো-হোয়াটসঅ্যাপে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে জনপ্রতি ২৭ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করছে পাচারকারীরা। নির্ধারিত টাকা না দিলে তাঁদের হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় দালাল সামছুল আলম ও লিবিয়াপ্রবাসী তাঁর ভাই মানিকের প্রলোভনে পড়ে প্রায় আট-নয় মাস আগে ওই তরুণেরা দেশ ছাড়েন। চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের ইতালি পাঠানোর কথা বলে জনপ্রতি ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। কিন্তু ইতালিতে না পাঠিয়ে লিবিয়ায় দীর্ঘদিন আটকে রাখার পর সপ্তাহ তিনেক আগে তাঁদের সেখানকার মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। জিম্মি হওয়া এই তরুণেরা হলেন উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন, মানিকুল ইসলাম, মো. সোহেল, তাজ মোহাম্মদ, ফয়সাল এবং লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান।
নির্যাতনের এমন ভয়াবহ দৃশ্য সরাসরি ভিডিও কলে দেখতে বাধ্য হচ্ছেন দেশে থাকা স্বজনেরা, যা তাঁদের চরম দিশেহারা করে তুলেছে। জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে দালালদের বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার পর নতুন করে এত টাকা জোগাড় করার কোনো সামর্থ্য তাঁদের নেই। এদিকে এলাকায় নির্যাতনের এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযুক্ত সামছুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন; তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। নিরূপায় হয়ে ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জানালেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাননি।
আরও
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, লিবিয়ায় জিম্মি হওয়ার ঘটনাটি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।









