অনলাইন জুয়ায় আসক্তিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় স্ত্রীর মরদেহ। এরপর দেশ ছেড়ে তড়িঘড়ি করে সিঙ্গাপুরে পালানোর চেষ্টাকালে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই স্বামী। রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মিরাজুল ইসলাম রাসেল। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। এর আগে গত শনিবার ভোরে কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদ নগর চৌরাস্তা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে রাসেলের স্ত্রী সম্পা আক্তার আরিফার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আরিফার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। দশ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয় এবং জায়ান নামের পাঁচ বছর বয়সী তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

আরও
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাসেল দীর্ঘ দিন ধরে সিঙ্গাপুরে থাকেন। প্রবাসে থাকা অবস্থাতেই তিনি অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। মাসখানেক আগে ছুটিতে দেশে আসার পরও তাঁর জুয়া খেলা অব্যাহত ছিল। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রায়ই কলহ হতো এবং আরিফার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালাতেন তিনি। গত শুক্রবার রাতে জুয়া খেলতে আবারও বাধা দিলে রাসেল তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন। স্বজনদের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে আরিফা মারা গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাঁকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. অহিদুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। রাসেলের ছুটির মেয়াদ আরও এক মাস থাকলেও মামলা হওয়ার পরপরই তিনি দেশত্যাগের পরিকল্পনা করেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার পরপরই রাসেলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছিল এবং তাঁর বিদেশযাত্রা ঠেকাতে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। রোববার দুপুরে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সময় তিনি ধরা পড়েন। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল অনলাইন জুয়ায় আসক্তি ও স্ত্রীকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। আপাতত এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। বাবার জুয়ার আসক্তির জেরে পাঁচ বছরের শিশুটি এখন মাতৃহারা বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।










