ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশটির যুবরাজ ও ডি-ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান (৪১) তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরদার করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচতে যুবরাজ বর্তমানে বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিভিন্ন রাজপ্রাসাদের মধ্যে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াত করছেন। এ সময় তাঁকে সার্বক্ষণিক সুরক্ষা দিচ্ছে বিশেষায়িত ও এলিট একটি নিরাপত্তাদল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান করার সময় তাঁকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল।
হুতিদের ক্রমবর্ধমান এসব হামলার কারণে রিয়াদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক এলাকার কর্মী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কূটনীতিকদের ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার বা সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, আকাশপথে ধেয়ে আসা হামলা ঠেকাতে গিয়ে সৌদি আরবের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের (মিসাইল ইন্টারসেপ্টর) মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে। বিশাল আয়তনের দেশটিতে একই সঙ্গে একাধিক স্থানে হামলার হুমকির মুখে রাজপ্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘এয়ার-ডিফেন্স ব্যাটারি’ বা আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি যুবরাজ সালমানের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচির জন্যও এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবকে পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বছরের পর বছর ধরে ‘নিওম’-এর মতো ভবিষ্যৎমুখী মেগা প্রকল্পগুলোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন তিনি। কিন্তু হুতিদের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু এখন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার এবং ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন—যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করে রিয়াদ। সেই সঙ্গে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলেও হুতিরা যে নতুন হুমকি তৈরি করেছে, তা সৌদি আরবের অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।









