সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার হঠাৎ ঘটা এই বিস্ফোরণের পর গোটা বিমানবন্দর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রিয়াদগামী বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি সৌদি সরকারের গণমাধ্যম শাখা ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বিস্ফোরণের জেরে রিয়াদের আকাশপথে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের অচলাবস্থা ও শিডিউল বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যমতে, ঘটনার পর রিয়াদগামী সব উড়োজাহাজ অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ইতিহাদ ও কাতার এয়ারওয়েজ তাদের প্রধান হাব থেকে রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে, যার মেয়াদ সোমবার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে তবেই বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। সম্প্রতি হুতিরা সৌদি আরবের আকাশসীমাকে ‘সামরিক অভিযানের এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোকে ওই পথ এড়িয়ে চলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে এর আগে আরও দুবার হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি একটি উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সৌদি জোটের সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকেই হুতিরা মূলত সৌদির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে তাদের রকেট ও ড্রোন হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও
একের পর এক হামলা ও বিস্ফোরণের জেরে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হলেও রিয়াদে পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক কর্মসূচিগুলো চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সৌদি আরবের রাজধানীতে জ্বালানি ও বিনিয়োগবিষয়ক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আয়োজনের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলো। তবে সম্মেলনের আয়োজকেরা শনিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কোনো সূচি পরিবর্তন করা হবে না এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। সেই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও অতিথিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়েও জোরালো আশ্বাস দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।








