লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও আরব সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, গত ২০ জুলাই সৌদি জাহাজের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এসব হামলা চালানো হয়। এর পাশাপাশি আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর থেকে অন্তত ৪৮টি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

হুথিদের এই দাবির মধ্যেই তাদের অন্যতম প্রধান সমর্থক রাষ্ট্র ইরানের রাজধানী তেহরানে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। পেট্রোলের দাম বাড়ার গুজবের মধ্যে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। চালু থাকা পাম্পগুলোতেও জ্বালানি সংগ্রহের জন্য গাড়িচালকদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জ্বালানির ব্যবহার কমাতে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরোনো গাড়ি ও মোটরসাইকেল জব্দ করে এক মাসের জন্য আটকে রাখার মতো কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
আরও
মূলত অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঘাটতি এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় ইরানে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির এনার্জি এফিশিয়েন্সি অর্গানাইজেশনের প্রধান ইসমাইল সাকাব এসফাহানির তথ্যমতে, ইরানে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি লিটার পেট্রোলের ঘাটতি থাকছে। এমন শ্বাসরুদ্ধকর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলে তা বারুদের স্তূপে আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো ভয়াবহ জন-অসন্তোষ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনৈতিক কমিটির সংসদ সদস্য হোসেন সামসামি। অন্যদিকে, শত্রুপক্ষ এই জ্বালানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ।
সংকট মোকাবিলায় পেট্রোলের সঙ্গে মিথানল মেশানোর সরকারি উদ্যোগ নিয়েও সাধারণ ইরানিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পার্সিয়ান গাল্ফ স্টার রিফাইনারির প্রধান নির্বাহী ওয়াহিদ ঘানেই-ফার্দ জানিয়েছেন, ৩ শতাংশ মিথানলযুক্ত পেট্রোল উৎপাদনের পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। তবে গাড়ির ইঞ্জিন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যয়ের সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া মিথানল মেশানো কোনো দীর্ঘমেয়াদি বা টেকসই সমাধান হতে পারে না। তাছাড়া দেশটির মাত্র ৩৮ শতাংশ পেট্রোল ইউরো-৪ ও ইউরো-৫ মানদণ্ড পূরণ করায় সার্বিক জ্বালানির মান নিয়ে পুরোনো শঙ্কাটি থেকেই যাচ্ছে।










