Long Popup (2)
সর্বশেষ

সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

SaudiProbashircityWebPopupUpdate

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে জোরদার করা হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। গত কয়েক মাসে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক এসব অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন। সর্বশেষ গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৩০ হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। মূলত স্থানীয় শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ বসবাসকারীদের চিহ্নিত করতে সৌদি সরকারের নিয়মিত আইনি পদক্ষেপেরই অংশ এই ধরপাকড়।

বাংলাদেশি কর্মীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতায় পড়ার পেছনে দালাল চক্রের প্রতারণা ও ইকামার শর্ত ভঙ্গ প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অনেক কর্মীই দেশে দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট কাজের ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ পান না। বাধ্য হয়ে তাঁরা নিজেদের ইকামায় (রেসিডেন্সি পারমিট) উল্লেখিত পেশা ও শহরের বাইরে গিয়ে অন্য কাজ নেন। যেমন, কামরাঙ্গীরচরের আরিফ হোসেন পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে রিয়াদে গিয়ে কাজ না পেয়ে মক্কায় পাড়ি জমান এবং অবৈধভাবে কাজ করার দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন। সৌদি আরবের কঠোর শ্রম আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্পনসর বা নির্ধারিত শহরের বাইরে কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

তবে এই অভিযান নিয়ে সাধারণ বা বৈধ প্রবাসীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। কনস্যুলার (শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিনের মতে, এটি সৌদি কর্তৃপক্ষের একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। বৈধ ইকামা নিয়ে নির্ধারিত স্থানে কাজ করলে এবং দেশের প্রচলিত নিয়মকানুন মেনে চললে কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে বর্তমানে জেদ্দার সফর জেলে (ডিপোর্টেশন সেন্টার) দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি। এ ছাড়া আরও প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশটির কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে এর অবদান অনস্বীকার্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড সাড়ে সাত লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছেন। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ক নতুন চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এ অবস্থায় দালালদের মিথ্যা প্রলোভনে পা না দিয়ে এবং অন্যের ইকামায় কাজ করার মতো ঝুঁকি পরিহার করে সচেতনতার সঙ্গে নিয়ম মেনে চললে, সৌদি আরবের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য আরও নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন news@probashtime.com মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate