পবিত্র হজ শুরু হতে বাকি আর মাত্র দুই দিন। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পদচারণায় এখন মুখর সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরী। কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ায় সাঈ এবং নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন আল্লাহর মেহমানরা। সবার হৃদয় এখন মিনার দিকে, যেখানে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মক্কার প্রতিটি অলিগলি, মসজিদ এবং রাস্তাঘাট এখন সাদা ইহরাম পরা মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ, আর চারপাশ প্রতিনিয়ত মুখরিত হচ্ছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে।
হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং সার্বিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে সৌদি আরব সরকার। তীব্র গরম ও আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার মক্কা ও মিনার তাঁবুগুলোতে বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত পানীয়র ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাজিদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা দিতে মক্কা, মিনা, আরাফাত এবং মুজদালিফায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালসহ হাজারো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া বা অবৈধভাবে কেউ যেন হজে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য মক্কায় প্রবেশের প্রতিটি তল্লাশিচৌকিতে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকেও চলতি বছর হজে গমনেচ্ছু প্রায় সব যাত্রীই এরই মধ্যে মক্কায় পৌঁছে গেছেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া এসব হজযাত্রীদের চিকিৎসাসহ যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ হজ মিশন দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। মক্কায় অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিরা এখন নিজেদের শারীরিক ও আত্মিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার জন্য। সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ আবহে মক্কা নগরীতে এখন কেবলই হজের চূড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষা।








