Long Popup (2)
সর্বশেষ

হাজিদের জন্য প্রস্তুত বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোরবানি পশুর জবাইখানা

Lpy 20260514ProbashircityWebPopupUpdate

চলতি পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সৌদি আরবের মক্কায় ‘আদাহি’ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বয়ংক্রিয় কোরবানির জবাইখানা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশাল প্রকল্পটির মাধ্যমে এরই মধ্যে চলতি বছর প্রায় ৮ লাখ কোরবানির বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত বছরও বিপুলসংখ্যক অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ হাজি এই ‘আদাহি’ প্রকল্পের মাধ্যমেই তাঁদের কোরবানি সম্পন্ন করেছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ব্যক্তি এককভাবে অংশ নেন। এ বছরও হাজিদের কোরবানি প্রক্রিয়াকে আরও সুষ্ঠু, নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

বিশাল এই স্বয়ংক্রিয় জবাই প্রকল্পটি মক্কার নির্ধারিত ১০টি স্থানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পুরো কার্যক্রমটি দ্রুততম সময়ে এবং নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে এই প্রকল্পে কাজ করছেন প্রায় ২৫ হাজার কর্মী, যাদের মধ্যে ১৭ হাজারই হলেন সুদক্ষ কসাই। তবে এ বছর কোরবানির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের হজ মৌসুমে এই প্রকল্পে শুধুমাত্র ভেড়া কোরবানি করা হবে এবং উট ও গরুর কোরবানি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক পশু জবাইয়ের জন্য সব ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

কোরবানির জন্য আনা প্রতিটি পশু জবাইয়ের আগে কঠোরভাবে শরিয়াহ অনুযায়ী এর বয়স (ন্যূনতম ৬ মাস) ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর জবাইকৃত কোনো পশুর মাংসের ওজন ৯ কেজির কম হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হয়। জবাই শেষে পশুর মাংস আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পরিষ্কার করে আড়াই কেজি করে প্যাকেটজাত করা হয় এবং মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। প্রকল্পটিতে থাকা ২০টি বৃহৎ আকারের ফ্রিজারে প্রায় ৭ লাখ পশুর মাংস সংরক্ষণের চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে। পরবর্তীতে এই সংরক্ষিত গোশত একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী বাছাই করে সমুদ্রপথে বিশ্বের ২৭টি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত দেশে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়।

হজযাত্রীদের সুবিধার্থে পুরো কোরবানির বুকিং ও নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও ডিজিটাল করা হয়েছে। হাজিরা মাত্র ৭২০ সৌদি রিয়াল খরচ করে তাদের কোরবানির জন্য বুকিং করতে পারছেন। এই বুকিং প্রক্রিয়াটি সহজে সম্পন্ন করা যাচ্ছে জনপ্রিয় ‘নুসুক’ অ্যাপ, অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যাংক অথবা এহসান ও জাহেজ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। সবচেয়ে বড় সুবিধার দিক হলো, কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাজিদের ব্যক্তিগত ই-মেইল অথবা তাঁদের স্ব স্ব হজ গ্রুপের সমন্বয়কারীর মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে তা দ্রুত নিশ্চিত করে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate