রক্ষণশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে সৌদি আরবে এখন নারীদের অভাবনীয় দাপট। দেশটির অর্থনীতি থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়—সবখানেই নারীরা এখন চালকের আসনে। ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের পথে হেঁটে ২০২৫ সাল নাগাদ দেশটির মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশে। শুধু তা-ই নয়, শ্রমবাজারেও সৌদি নারীদের অংশগ্রহণ এখন ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ। একসময় যে নারীদের ভূমিকা কেবল সমাজ ও সংসারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ভাবা হতো, তারাই এখন সৌদি আরবের জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও রূপান্তরের সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন।

ব্যবসা-বাণিজ্যেও রীতিমতো রাজত্ব করছেন সৌদি নারীরা। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশটিতে নারী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ। নমনীয় কর্মপরিবেশ ও ঘরে বসে কাজের সুবিধার কারণে নারীদের বেকারত্বের হারও দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ন্যাশনাল অবজারভেটরি ফর উইমেন জানাচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের এই ক্ষমতায়ন এখন আর কোনো সাধারণ সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং তা দেশের অর্থনীতির মূল ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করছে।
আরও


সৌদি নারীদের এই দাপট শুধু দেশের ভেতরেই আটকে নেই, ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক প্যাটেন্ট বা স্বত্ব অর্জনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন তাঁরা। বিশ্বব্যাংকের সূচকেও লিঙ্গবৈষম্য কমিয়ে এনে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব। আগামী দিনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি এবং সবুজ ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ও চ্যালেঞ্জিং খাতগুলোতেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সৌদি নারীরা।









