সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত চরম জটিলতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কোনো ধরনের বিকল্প বা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না রেখেই গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর ফলে নতুন ই-পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে, যা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বাভাবিক কর্মজীবন ও দেশটিতে বৈধ অবস্থানকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, এমআরপি চালু থাকাকালে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার পাসপোর্টের আবেদন জমা নেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমে প্রতি মাসে মাত্র ছয় হাজার আবেদনকারীকে শিডিউল বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সেবার এই চরম অপ্রতুলতার কারণে প্রতি মাসেই প্রায় ১৮ থেকে ১৯ হাজার প্রবাসী পাসপোর্ট নবায়ন করার সুযোগ থেকে সরাসরি বঞ্চিত হচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১৫ এপ্রিল যাঁরা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের শিডিউল দেওয়া হচ্ছে জুনের শেষ সপ্তাহে। অর্থাৎ, শুধু আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্যই একজন প্রবাসীকে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এই প্রাথমিক আইনি ধাপটি পেরোনোর পর মূল পাসপোর্ট হাতে পেতে তাঁদের আরও দীর্ঘ সময় পার করতে হচ্ছে।
আরও
সময়মতো পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ার এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রবাসীদের আকামা (রেসিডেন্ট পারমিট) নবায়ন, কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং ভিসা-সংক্রান্ত নানা জরুরি কাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। দেশের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই প্রবাসীদের প্রশ্ন—পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া কেন হঠাৎ করে এমন একটি অতি জরুরি সেবাকে সীমিত করা হলো? প্রবাসজীবনের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।










