পরিবারের সুখের চাকা সচল রাখতে ২০১৯ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের টিটু মিয়া। এরপর দীর্ঘ সাত বছর প্রিয়জনদের মুখ দেখা হয়নি তার। কফিলের সমস্যা আর টানাপোড়েনের মাঝেও লড়ে গেছেন অবিরাম। বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, ছেলের শখের বাইক কিনে দিয়েছেন, মিটিয়েছেন স্বজনদের শত আবদার। কিন্তু পরিবারের অভাব মেটানোর এই অন্তহীন যুদ্ধে নিজের শরীরের দিকে তাকানোর ফুরসত পাননি এই প্রবাসী যোদ্ধা।
গত ১৫ এপ্রিল সৌদি আরবের আল খারিজের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে রিক্তহস্তে না ফেরার দেশে চলে গেলেন টিটু মিয়া। আমাদের সমাজে এরাই প্রকৃত যোদ্ধা, যারা নীরবে একতরফা ত্যাগ স্বীকার করে যান কিন্তু বিনিময়ে কিছুই নিয়ে যেতে পারেন না। গাইবান্ধার মান্দুয়া গ্রামে এখন কেবলই শূন্যতা। নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটানো টিটু মিয়ারা হয়তো এভাবেই নিঃশব্দে বিদায় নেন।










