মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব দিয়ে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যের দৈনিক ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’–এর এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনীতিকদের বরাতে জানানো হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটনকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। রিয়াদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখলে এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তাদের ইয়েমেনি মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংকীর্ণ এই জলপথ দিয়েই সৌদি আরবের বেশির ভাগ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হলে রিয়াদ মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি নিয়ে কিছুটা সুখবর দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় একটি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ওমান-সংলগ্ন হরমুজ প্রণালির অংশ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিনা বাধায় চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে এই জলপথে শত শত তেলের ট্যাংকার এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। বিশ্ববাজারে পরিবাহিত মোট তেল ও এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে যায় বলে এই অচলাবস্থায় চরম বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে।
আরও
গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
তেহরানঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, প্রণালির ওমান-নিয়ন্ত্রিত পাশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার এই ছাড় পুরোপুরি নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ইরানের দাবিগুলো কতটুকু মেনে নেবে তার ওপর। তবে ওই অংশে পেতে রাখা সম্ভাব্য জলমাইনগুলো ইরান অপসারণ করবে কি না কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোও অবাধ চলাচলের অনুমতি পাবে কি না, সে বিষয়ে সূত্রটি সুস্পষ্ট কিছু জানায়নি। যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে তেহরানের এই প্রস্তাবগুলোই এখন মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









