Long Popup (2)
সর্বশেষ

কাতারের গ্যাসক্ষেত্রে ইরানের ফের ভয়াবহ হামলা

Image 275416ProbashircityWebPopupUpdate

কাতারের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলার ফলে গ্যাসক্ষেত্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তবে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে কাতারএনার্জির দেওয়া আরেক বিবৃতিতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। সংস্থাটি জানায়, রাস লাফান ছাড়াও আরও বেশ কিছু এলএনজি স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানালেও পুরো অঞ্চলে এখন এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সম্প্রতি ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জেরে ইরান পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছিল। ইরানের এই হুমকির তালিকায় কাতারের রাস লাফান ছাড়াও সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রের নাম ছিল। সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। কাতার এই হামলাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। এর চরম প্রতিক্রিয়ায় দোহায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের কাতার ত্যাগের কড়া নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার।

কাতারে হামলার পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৭টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে আমিরাতের হাবশান গ্যাসকেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে। এমন এক সংকটময় সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরানের এই ক্রমবর্ধমান হুমকি ও পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়টিই মূল আলোচ্য বিষয় হবে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

দোহা থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাস লাফান কেন্দ্রটি বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ একাই নিয়ন্ত্রণ করে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইতিমধ্যে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করে জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে জার্মানি, জাপান, ভারত ও তুরস্কের মতো এলএনজি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate