হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার শিকার হওয়া একটি সৌদি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজের ১৬ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমানের নৌবাহিনী। হামলার প্রায় এক সপ্তাহ পর গতকাল সোমবার ওমান কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উদ্ধার তৎপরতার কথা জানানো হয়। ‘সিডর’ নামের ওই জাহাজে হামলার ঘটনায় ফিলিপাইনের দুজন নাবিক নিহত হয়েছিলেন বলে এর আগে নিশ্চিত করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রয়্যাল নেভি অব ওমানের একটি জাহাজ সমুদ্রে ক্ষতিগ্রস্ত ওই তেলবাহী জাহাজের ২৫ সদস্যের ক্রু দলকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে। এর অংশ হিসেবে ১৬ জন নাবিককে সফলভাবে সরিয়ে এনে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে জাহাজে থাকা বাকি নাবিকদের বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে ওমান কর্তৃপক্ষের ওই বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি আরবের জাতীয় নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান গত বুধবার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গত সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন প্রাণঘাতী হামলা আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তাকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে।
আরও
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চলে তীব্র অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে, ঠিক তখনই ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা নৌ অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরাশক্তিগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন চরম আকার ধারণ করেছে।











