ওমানে বিদায়ী ২০২৫ সালে অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ইনফরমেশনের (এনসিএসআই) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে প্রায় ২১ হাজার অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যারাবিয়ান স্টোরিজ’-এর প্রতিবেদন বলছে, মোট অপরাধের ৬২ দশমিক ৩ শতাংশই সম্পত্তি সংক্রান্ত। বছরজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার এমন ঘটনার অভিযোগ জমা পড়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেশি। এর পরেই রয়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অপরাধ, যার হার ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
অপরাধ সংঘটনের ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সার্বিক অপরাধের প্রায় ৪২ শতাংশই ঘটেছে রাজধানী মাসকাটে। গত বছর কেবল মাসকাটেই ৮ হাজার ৯১৬টি অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে প্রতি এক হাজার বাসিন্দার বিপরীতে অপরাধের হার ৫ দশমিক ৮। রাজধানীর পর পর্যায়ক্রমে উত্তর আল বাতিনাহ, দক্ষিণ আল বাতিনাহ ও ধোফার গভর্নরেটের অবস্থান। অন্যদিকে, সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল আল উস্তা গভর্নরেটে; সেখানে বছরজুড়ে মাত্র ১২০টি অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে। সার্বিক পরিসংখ্যান বলছে, ওমানে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫৮টি অপরাধ ঘটছে, যা আগের বছর ছিল ৫০টি।
অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধীর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। গত বছর দেশটিতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬ হাজার ৮৪৭ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। অভিযুক্তদের মধ্যে বিশাল অংশ, অর্থাৎ ৮৫ শতাংশই পুরুষ। বয়স বিবেচনায় অপরাধীদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের আধিক্য সবচেয়ে বেশি, যা মোট অপরাধীর ৩৬ শতাংশ। এছাড়া উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১৮ বছরের কম বয়সী ৭৫১ জন কিশোরও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য এই পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
আরও
অপরাধের শিকার বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও গত বছর প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে ২১ হাজার ৯০০-তে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই সাধারণ নাগরিক এবং তাদের প্রতি দশজনে সাতজনই পুরুষ। তবে সার্বিক অপরাধ ও ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়লেও একটি ইতিবাচক দিক হলো— ‘পাবলিক রাইটস’ বা জনঅধিকার লঙ্ঘনের মতো মামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বিদায়ী বছরে এমন মামলা ৫২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৩টিতে নেমে এসেছে।











