ওমানে লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশতাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৫৯ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতের কেরালা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীর নাম লতা সুনিল। ওমানের আল আইনে একটি নতুন কোম্পানিতে মাসে অন্তত ৭৫ হাজার রুপি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেরালার ওয়ানাডের এক তরুণের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, শুধু ওই তরুণই নন, তার পরিচিত ২১ জনসহ মোট ৫১ জন এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। লতা সুনিল ভিসা প্রসেসিং ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের কথা বলে চলতি বছরের শুরুতে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত আদায় করেন। ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে এসব অর্থ নেওয়া হলেও মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি কাউকেই কোনো ভিসা দিতে পারেননি।
টাকা ফেরত না পেয়ে এবং ভিসার কোনো অগ্রগতি না দেখে ভুক্তভোগীরা একপর্যায়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশি তদন্তে দেখা যায়, লতার দেওয়া ঠিকানাটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং সেখানে গত ১০ বছর ধরে ওই নামের কেউ থাকেন না। অভিযোগ দায়েরের পরপরই তিনি পালিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলে যান। পরবর্তীতে পুলিশের জারি করা লুকআউট নোটিশের ভিত্তিতে মাস্কাট থেকে কেরালায় ফেরার পর কারিপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও
পুলিশের ধারণা, তদন্ত এগোলে এই চক্রের ফাঁদে পা দেওয়া মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখনো অনেক ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে নারাজ। তাদের অন্ধ বিশ্বাস, লতা সুনিল হয়তো এখনো তাদের জন্য ভিসা ও চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন।











